সিবিএন ডেস্ক ;
কক্সবাজার সিটি কলেজ দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির কলেজ এবং মডেল কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারে উচ্চশিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী এবং ১৬৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার সমন্বয়ে পরিচালিত এ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রি, অনার্স, মাস্টার্স ও পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমাসহ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি (বিএমটি) বিভাগ রয়েছে। ডিগ্রি পর্যায়ে বিএ, বিএসএস ও বিবিএস কোর্সের পাশাপাশি ১৪টি বিষয়ে অনার্স, ২টি বিষয়ে প্রফেশনাল অনার্স, ৭টি বিষয়ে নিয়মিত মাস্টার্স, ৬টি বিষয়ে প্রিলিমিনারি ও প্রাইভেট মাস্টার্স এবং একটি পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্স চালু রয়েছে।
পর্যটননির্ভর কক্সবাজারের চাহিদা বিবেচনায় কলেজটিতে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালু করা হয়েছে। এসব বিভাগ এ অঞ্চলের দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবুও অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এত বড় ও গুরুত্বপূর্ণ এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি এখনো জাতীয়করণের আওতায় আসেনি।
কক্সবাজার সরকারি কলেজে সাধারণত এসএসসি ও এইচএসসিতে ভালো ফল করা শিক্ষার্থীরাই ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকে। অন্যদিকে, অপেক্ষাকৃত কম জিপিএ পাওয়া বহু শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার প্রধান ভরসা কক্সবাজার সিটি কলেজ। অসংখ্য শিক্ষার্থী রয়েছেন, যারা এসএসসিতে তুলনামূলক কম ফলাফল নিয়ে ভর্তি হয়ে এই কলেজ থেকে এইচএসসি, অনার্স কিংবা মাস্টার্সে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কলেজটির অবদান সত্যিই অনস্বীকার্য।
শুধু ফলাফল নয়, অবকাঠামোগত দিক থেকেও কক্সবাজার সিটি কলেজ জাতীয়করণের জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত। আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব, সিসিটিভি-নির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়মিত পাঠদান, অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে পর্যাপ্ত ক্লাস, পূর্ণাঙ্গ বিএম শাখা এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ—সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।
কক্সবাজার শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিবছর হাজারো শিক্ষার্থী এখানে উচ্চশিক্ষার জন্য আসে। তাদের একটি বড় অংশ কক্সবাজার সিটি কলেজে অধ্যয়ন করে। ফলে শুধু শহরের নয়, পুরো জেলার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত এবং পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এই কলেজ একটি নির্ভরযোগ্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
এছাড়া ভবিষ্যতে কক্সবাজারকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার সম্ভাবনা ও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম বিবেচনায় শহরের অন্যতম বৃহৎ এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের বিষয়টি নতুনভাবে মূল্যায়নের দাবি রাখে।
একজন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা প্রশাসন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি—কক্সবাজার সিটি কলেজের অবকাঠামো, শিক্ষার মান, ফলাফল, শিক্ষার্থী সংখ্যা, ভৌগোলিক গুরুত্ব এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর শিক্ষার চাহিদা বিবেচনায় এনে কলেজটিকে দ্রুত জাতীয়করণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
এই কলেজ জাতীয়করণ হলে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা স্বল্প ব্যয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে। অভিভাবকদের শিক্ষাব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। পাশাপাশি প্রায় ২০০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মজীবন আরও স্থিতিশীল ও নিরাপদ হবে।
কক্সবাজারের উচ্চশিক্ষাকে আরও সমৃদ্ধ করতে, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করতে এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে কক্সবাজার সিটি কলেজকে জাতীয়করণ করা এখন সময়ের দাবি।
একজন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই যৌক্তিক, সময়োপযোগী এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আন্তরিক অনুরোধ জানাচ্ছি।
রুহুল আমিন
প্রাক্তন শিক্ষার্থী
কক্সবাজার সিটি কলেজ
